পেশায় একজন ডাক্তার, কিন্তু বোঝার কোনো উপায় নেই এ পেশার আড়ালে তিনি অস্ত্র ব্যবসায়ী ও পেশাদার খুনি। এখানেই শেষ নয়, আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি ও মেরামতে বেশও বটে। এই ডাক্তার কাম পেশাদার খুনি হলেন ডা. মো. জাহিদুল আলম কাদির।
ডাক্তার জাহিদুল কাদির ও তার স্ত্রী মাসুমা আক্তারকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপ।
বৃহস্পতিবার (৭ জুন) বেলা ১১টায় ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ইউনিটের অতিরিক্ত কমিশনার মো. মনিরুল ইসলাম।
এর আগে ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজমের একটি টিম বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ১৫টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ১৬২২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে। এছাড়ার ডা. মো. জাহিদুল আলম কাদির ও তার স্ত্রী মাসুমা আক্তারকে গ্রেফতার করে তারা।
মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে .২২ বোরের রাইফেল তিনটি, .৩০৩ রাইফেল-একটি, .৩২ বোর রিভলবার চারটি, .২২ রিভলবার একটি, ৭.৬৫ পিস্তল পাঁচটি ও .২৫ পিস্তল একটি। উদ্ধারকৃত গুলির মধ্যে .৩০৩ রাইফেলের ১১০ রাউন্ড, .২২ রাইফেলের ১১০০ রাউন্ড, .৩২ রিভলবার ৩৫৮ রাউন্ড ও .২৫ পিস্তলের ৫৪ রাউন্ড।’
গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, ‘গত ১৫ মে ডা. মো. জাহিদুল আলমকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে দুইটি পিস্তল এবং আট রাউন্ড গুলিসহ গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনের মামলায় রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের তথ্যের ভিত্তিতে গত ৩ জুন গাবতলী এলাকা থেকে তার স্ত্রী মাসুমা আক্তারকে একটি বিদেশী পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলিসহ গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত মাসুমা আক্তারকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তার স্বামী ডা. জাহিদুল আলমের কাছে আরও অবৈধ বিদেশী অস্ত্রের মজুদের তথ্য জানতে পারলে পুনরায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে আনা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে ডা. জাহিদুল আলমের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (৭ জুন) ভোর চারটার সময়ে ময়মনসিংহ জেলার বাঘমারা এলাকার ডা. জাহিদুল আলম কাদিরের ফ্ল্যাট থেকে ১২টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১৬১০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গুলি তার নিজ বাসায় বিশেষভাবে তৈরিকৃত একটি স্টীল কেবিনেটের পিছনে লুকানো ছিল।’
মনিরুল ইসলাম আরও বলেন, ‘জাহিদুল আলম ২০০২ সালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করার পর সরকারি বা স্থায়ী কোন চাকরি করতেন না। তিনি গ্রামের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চাকরি করতেন। তিনি চিকিৎসা পেশার আড়ালে বিভিন্ন উৎস থেকে অবৈধভাবে লাইসেন্সবিহীন বিদেশী অস্ত্র সংগ্রহ করে উচ্চ মূল্যে বিক্রি করত। সে বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র তৈরী ও মেরামতে বিশেষভাবে পারদর্শী।’
‘এছাড়া বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে অস্ত্রের আকার আকৃতি পরিবর্তন এবং কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সে অনেক দক্ষ। পেশাদার খুনি হিসেবে সে বেশ কয়েক জায়গায় চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পূর্বেই তাকে গত মাসে গ্রেফতার করা হয়। জাহিদুল আলমের সাথে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সন্ত্রাসী এবং পেশাদার খুনিদের সখ্যতা ছিল।’
কাউন্টার টেরোরিজমের প্রধান বলেন, ‘জাহিদুল বেশ কিছু অস্ত্র বৈধ অস্ত্র বিক্রেতার কাছ থেকে সংগ্রহ করেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। যে সকল বৈধ অস্ত্র বিক্রেতা তার কাছে অবৈধভাবে অস্ত্র বিক্রি করেছে তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে।’