গেইল-ব্রাফেট ঝড়ের পরও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয় পেল না ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তীরে গিয়ে তরী ডুবল ওয়েস্ট ইন্ডিজের। শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল ইন্ডিজ। অন্যদিকে ক্যারিবীয়দের হারিয়ে বিশ্বকাপের শীর্ষে নিউজিল্যান্ড।
নিউজিল্যান্ডের করা ২৯১ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অলআউট হয়ে যায় ২৮৬ রানে। ফলে মাত্র পাঁচ রানের হেরে যায় ক্যারিবীয়রা। এ পরাজয়ের ফলে ৬ ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের সাত নম্বরেই রইলো উইন্ডিজ।
শেষ ১২ বলে জয়ের জন্য ক্যারিবীয়দের প্রয়োজন ছিল মাত্র ৮ রান। জেমস নিশামের করা ৪৯তম ওভারের শেষ বলে ক্যাচ তুলে দেন ব্রাথওয়েট। আর তাতেই ভেঙে যায় ক্যারিবীয়দের জয়ের স্বপ্ন। পরাজয়ের হতাশায় মাঠেই হাঁটু গেড়ে বসে পড়েন ব্রাথওয়েট। মাত্র ৫ রানে জয় পায় নিউজিল্যান্ড।
নিউজিল্যান্ডের এই জয়ে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সেমিফাইনালে খেলা অনিশ্চিত হয়ে গেল। নিজেদের পরের তিন ম্যাচে ভারত, শ্রীলংকা এবং আফগানিস্তানের বিপক্ষে টানা জয় পেলেও ক্যারিবীয়দের সেমিফাইনালে খেলা অনিশ্চিত।
অন্যদিকে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে পাওয়া ৫ রানের জয়ে ১১ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে উঠে গেল নিউজিলান্ড। এই জয়ে সেমিফাইনাল প্রায় নিশ্চিত করেছে কিউইরা।
নিজেদের পরের তিন ম্যাচে পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ড এই তিন দলের একটিতে জয় অথবা শ্রীলংকা যদি নিজেদের পরের তিন ম্যাচের একটিতে হেরে যায় তাহলে কিউইদের সেমিফাইনাল নিশ্চিত।
শনিবার ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টারে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে কেন উইলিয়ামসনের সেঞ্চুরিতে ২৯১ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে নিউজিল্যান্ড।
টার্গেট তাড়া করতে নেমে দলীয় মাত্র ২০ রানে আউট হন শাই হোপ ও নিকোলাস পুরান। তাদের বিদায়ে কোণঠাসা হয়ে যায় ক্যারিবীয়রা। তৃতীয় উইকেটে সিমরন হিতমারের সঙ্গে ১২২ রানের জুটি গড়েন ক্রিস গেইল।
এরপর মাত্র ২২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে যায় উইন্ডিজ। ৪৫ বলে ৮টি চার ও এক ছক্কায় ৫৪ রান করে ফার্গুনসনের বলে বোল্ড হয়ে যান হিতমার। রানের খাতা খুলার আগেই সাজঘরে অধিনায়ক জেসন হোল্ডার।
ইনিংসের শুরু থেকে অসাধারণ ব্যাটিং করে যাওয়া ক্রিস গেইল শিকার হন গ্রান্ডহোমের বলে। তার আগে ৮৪ বলে ৮টি চার ও ৬টি ছক্কায় ৮৭ রা রান করেন গেইল। ১ ও ০ রানে ফেরেন অ্যাসলে নার্স ও এভিন লুইস।
এরপর একাই লড়াই করে যান ব্রাথওয়েট। অষ্টম উইকেটে কেমার রোচের সঙ্গে গড়েন ৪৭ রানের জুটি। ৩১ বলে ১৪ রান করে ফেরেন কেমার রোচ। নবম উইকেটে শেলডন কটরিলের সঙ্গে গড়েন ৩৪ রানের জুটি। ২৬ বলে ১৫ রান করে ফেরেন কটরিল। তার বিদায়ের পরও দলকে জয়ের স্বপ্ন দেখিয়ে যান ব্রাথওয়েট। শেষ উইকেট জুটিতে ওশান থমাসকে নিয়ে দলকে জয়ের দুয়ারে নিয়ে যান ব্রাথওয়েট। জয়ের জন্য শেষ ৭ বলে প্রয়োজন ছিল মাত্র ৬ রান।
৪৯তম ওভারের শেষ বলে জেমস নিশামের করা বলে বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে লং অংনে ক্যাচ তুলে দেন ব্রাথওয়েট। আউট হয়ে যাওয়ার পর হতাশায় ভেঙে পড়েন তিনি। প্রতিপক্ষের ফিল্ডারা এসে ব্রাথওয়েটকে সান্তনাদেন। ৮২ বলে ৯টি চার ও ৫টি ছক্কায় ১০১ রান করেও দলকে জয় উপহার দিতে ব্যর্থ হন তিনি।
উইন্ডিজের হয়ে সর্বোচ্চ ১০১ রান করেন ব্রাথওয়েট। ৮৭ রান করেন ক্রিস গেইল। ৫৪ রান করেন হিতমার। নিউজিল্যান্ডের হয়ে ৩০ রানে ৪ উইকেট শিকার করেন ট্রেন্ট বোল্ট।
নিউজিল্যান্ড ২৯১/৮
কেন উইলিয়ামসনের অনবদ্য সেঞ্চুরিতে ২৯১ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়েছে নিউজিল্যান্ড। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের স্বপ্ন টিকে রাখতে হলে জয়ের বিকল্প নেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের। বাঁচা-মরার লড়াইয়ের ম্যাচে জিততে হলে ২৯২ রান করতে হবে গেইল-হোল্ডারদের।
শনিবার ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করে নিউজিল্যান্ড। ব্যাটিংয়ে নেমেই শেলডন কটরিলের গতির মুখে পড়ে মাত্র ৭ রানে দুই ওপেনারের উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড।
এরপর দলের হাল ধরেন অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন ও রস টেইলর। তৃতীয় উইকেটে তারা ১৬০ রানের জুটি গড়েন। ফিফটি তুলে নেয়ার পর ক্রিস গেইলের বলে জেসন হোল্ডারের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন টেইলর। তার আগে ৯৫ বলে ৭টি চারে ৬৯ রান করেন টেইলর।
পাঁচ নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নামা টম লাথামকে সঙ্গে নিয়ে অনবদ্য জুটি গড়েন উইলিয়ামসন। এই জুটিতেই শতরানের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে চাপের মুহূর্তে অসাধারণ ব্যাটিং করে সেঞ্চুরি করার পাশাপাশি দলকে জয় উপহার দেন তিনি।
চতুর্থ উইকেটে কেন উইলিয়ামসনের সঙ্গে ৪৩ রানের জুটি গড়ে সাজঘরে ফেরেন টম লাথাম। তার আগে ১৬ বলে ১২ রান করেন তিনি। তার বিদায়ের পরও ব্যাটিং তাণ্ডব চালিয়ে যান উইলিয়ামসন। তার একার লড়াইয়ে ৮ উইকেটে ২৯১ রান তুলতে সক্ষম হয় নিউজিল্যান্ড। দলের হয়ে ১৫৪ বলে ১৪টি চার ও একটি ছক্কায় ১৪৮ রান করেন উইলিয়ামসন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
নিউ জিল্যান্ড: ৫০ ওভারে ২৯১/৮ (গাপটিল ০, মানরো ০, উইলিয়ামসন ১৪৮, টেইলর ৬৯, ল্যাথাম ১২, নিশাম ২৮, ডি গ্র্যান্ডহোম ১৬, স্যান্টনার ১০, হেনরি ০*; কটরেল ১০-১-৫৬-৪, রোচ ১০-২-৩৮-০, হোল্ডার ৭-০-৪২-০, টমাস ৬-০-৩০-০, ব্র্যাথওয়েট ৬-০-৫৮-২, নার্স ৯-০-৫৫-০, গেইল ২-০-৮-১)
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৪৯ ওভারে ২৮৬ (গেইল ৮৭, হোপ ১, পুরান ১, হেটমায়ার ৫৪, হোল্ডার ০, ব্র্যাথওয়েট ১০১, নার্স ১, লুইস ০, রোচ ১৪, কটরেল ১৫, টমাস ০*; বোল্ট ১০-১-৩০-৪, হেনরি ৯-০-৭৬-১, ফার্গুসন ১০-০-৫৯-৩, নিশাম ৬-০-৩৫-১, স্যান্টনার ১০-১-৬১-০, ডি গ্র্যান্ডহোম ৪-০-২২-১)
ফল: নিউ জিল্যান্ড ৫ রানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: কেন উইলিয়ামসন