টপ পোষ্ট

বিশ্বকাপ জেতা হয়নি যে দশ বিশ্বতারকার

0

 

 

 

 

 

 

 

 

ক্যারিয়ারের প্রতিটি মুহূর্তে তারা আলো ছড়িয়েছেন। কিন্তু বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। নিজে ব্যর্থ হয়েছেন অথবা দল। আবার এমনও হয়েছে যে, নিজে সফল কিন্তু ব্যর্থ দল। 

আন্তর্জাতিক ফুটবলে এমন অনেক নাম ঝলঝল করে ঝলছে। যাদের অন্যতম লিওনেল মেসি-ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ঠিক তেমনই ক্রিকেটেও রয়েছে ডজনের অধিক তারকা, যাদের কিনা এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের ট্রফিতে চুমো দেওয়ার সুযোগ হয়নি।

ব্রায়ান লারা

ক্রিকেটে অতিমানবীয় ইনিংসের বেশিরভাগই লারার দখলে। বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রানের ৪০০ রানের ইনিংস, তাও এই ক্যারিবীয় কিংবদন্তির দখলে। ভুল সময়ে জন্ম নেওয়া লারা তার দলের হয়ে প্রায় একাই লড়াই চালিয়ে যেতেন। ১৯৯২ বিশ্বকাপে দলের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান ছিলেন, তিনটি হাফ সেঞ্চুরি করেছিলেন। কিন্তু তারপরও সেমিতে ওঠা হয়নি তার দলের। এরপর ১৯৯৬ বিশ্বকাপেও একই দুর্গতি।  দ্বিতীয় রাউন্ডে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ঝোড়ো এক সেঞ্চুরি করলেন, কিন্তু দলের বিদায় হলো সেমিফাইনাল থেকে, তাও নাটকীয় এক ম্যাচে।

৯২-৯৬ বিশ্বকাপে মাতোয়ারা ব্যাটিং শৈলী দেখালেও ১৯৯৯ বিশ্বকাপে ছিলেন নিষ্প্রভ। সে কষ্টেই কি না, জীবনের শেষ বিশ্বকাপ শুরু করলেন সেঞ্চুরি দিয়ে, প্রতিপক্ষ সেই দক্ষিণ আফ্রিকা। কানাডা আর বাংলাদেশের বিপক্ষে দুটি মাঝারি মানের ইনিংসও ছিল তার। তাও প্রথম রাউন্ডে বাধা পেরোতে পারেনি উইন্ডিজ। ২০০৭ সালে ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপটা নিজের মাঠে খেললেও প্রাপ্তি তার শূন্যই।

গ্রাহাম গুচ

সুইপ শটের রাজা ছিলেন ইংলিশ ব্যাটসম্যান গ্রাহাম গুচ। ১৯৭৬ সালে প্রথম ওয়ানডে খেলা গুচ পরের ২০ বছর ইংল্যান্ডের অন্যতম ব্যাটিং স্তম্ভ হয়ে থাকলেও বিশ্বকাপ শিরোপাটা ছিল ধরাছোঁয়ার বাইরে। ক্যারিয়ারে ক্রিকেট এবং দেশকে অনেক কিছু উপহার দিলেও তার অর্জন শূন্যের কোঠায়। গুচের ক্যারিয়ারের তার দল তিনবার ফাইনালে উঠে। কিন্তু সফলতা পায়নি।

ওয়াকার ইউনিস

১৯৯২ বিশ্বকাপ জয় করে পাকিস্তান। দুঃখজনক ব্যাপার হলো, সেবার বিশ্বকাপের আগে ইনজুরির কারণে দল থেকে বাদ পড়েন ওয়াকার। পরে ১৯৯৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠলেও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে পেরে ওঠেনি পাকিস্তান। সেবার পাকিস্তানের বিশ্বকাপ দলে থাকলেও ওয়াকার খেলেছিলেন কেবল বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচটি। ২০০৩ বিশ্বকাপে অধিনায়ক হয়েই গিয়েছিলেন। কিন্তু পাকিস্তান বাদ পড়ে যায় প্রথম রাউন্ড থেকেই। পুরোনো বলে রিভার্স সুইং করানোকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া এই পেসারের চেয়ে ওয়ানডেতে কেউ বেশিবার ইনিংসে পাঁচ উইকেট পায়নি। ইনিংসের শেষদিকের ওভারগুলোতে ওয়াকারকে খেলতেই পারতেন না ব্যাটসম্যানরা। সে ওয়াকারের কপালেই জোটেনি বিশ্বকাপ।

ইয়ান বোথাম

অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি সর্বকালের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডারের তালিকা করলে বোথামের নাম আসবেই। বল হাতে সব সময়ে কার্যকরী এই পেসার ব্যাট হাতে ছিলেন বিধ্বংসী। ১৯৮৭ বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা ইংল্যান্ড দলেই ছিলেন না বোথাম। এর মধ্যে ১৯৯২ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত খেলেছিলেন ১০ ম্যাচে পেয়েছিলেন ১৬ উইকেট। দল ফাইনালে উঠলেও বিশ্বকাপ জেতায় হয়নি তার।

জ্যাক ক্যালিস

সর্বকালের অন্যতম সেরা পেস অলরাউন্ডার ভাবা হয় তাকে। বল হাতে যেমনটা ছিলেন বিধ্বংসী। ব্যাট হাতেও প্রতিপক্ষ দূর্গে ফাটল ধরিয়ে দিতে পারতেন ক্যালিস। কিন্তু দুঃখজনক ব্যাপার হলো এই অলরাউন্ডারের কপালেও জোটেনি বিশ্বকাপ।

বছরের পর বছর দলের মূল ভরসা হয়ে থাকা এই তারকা ব্যাট হাতে ওয়ানডেতে ১১ হাজারের বেশি রান করেছেন, বল হাতে উইকেট নিয়েছেন ২৭৩টি। ১৯৯৯ বিশ্বকাপের সেই ‘ভুতুড়ে’ সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ‘টাই’ করে বিদায় নিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ২০০৩, ২০০৭, ২০১১, ২০১৫—এরপর চারটি বিশ্বকাপে তো প্রোটিয়াদের কপালে লেগে গেল ‘চোকার’ তকমা।

কুমার সাঙ্গাকারা

২০১৫ বিশ্বকাপে কুমার সাঙ্গাকারা টানা চার সেঞ্চুরি করেছিলেন। আধুনিক ক্রিকেটের ব্যাটিংকে অনন্য এক পর্যায়ে নিয়ে যান সাঙ্গাকারা। উইকেটরক্ষক এই ব্যাটসম্যান যখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নেন তখন ওয়ানডেতে শুধু শচীন টেন্ডুলকারের রান তার থেকে বেশি ছিল। দুই বিশ্বকাপে ফাইনাল খেলেছেন। পঞ্চাশোর্ধ্ব গড় রেখেও দলকে ফাইনালে জেতাতে পারেননি সে দুবার।

এবি ডি ভিলিয়ার্স

৩৬০ ডিগ্রি খ্যাত এবি ডি ভিলিয়ার্স ক্রিকেটীয় জীবনে কত কিছুই না পেয়েছেন। কিন্তু তার অপ্রাপ্তি ছিল কেবল বিশ্বকাপ। ডি ভিলিয়ার্স ২০১৫ সালে উইন্ডিজের বিপক্ষে মাত্র ৩১ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন। ওয়ানডেতে ব্যাটিং গড় প্রায় ৫৪ রেখেও দলকে বিশ্বকাপ জেতানো হয়নি এই তারকার।

কার্টলি অ্যামব্রোস

ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম সেরা এই পেসার জেতেননি বিশ্বকাপ। বরাবরই ভীতিজাগানিয়া পেসার হলেও বিশ্বকাপে চুপসে যেতে তিনি।

সৌরভ গাঙ্গুলী

ইয়ান বোথাম ও গাঙ্গুলী একই প্রকৃতির ছিলেন। ২০০৩ বিশ্বকাপে একাই তিন সেঞ্চুরি করে দলকে তুলেছিলেন ফাইনালে। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে স্বপ্ন ভেঙে যায় তার। ক্যারিয়ারে বিশ্বকাপে বিশ্বকাপের ২২ ম্যাচ খেলে ৫৫.৮৮ গড়ে রান করেছিলেন ১ হাজার ৬। দুর্ভাগ্য, এত কিছু করেও দলকে বিশ্বকাপ জেতাতে পারেননি তিনি।

শহীদ আফ্রিদি

শহীদ আফ্রিদির কল্যাণে ওয়ানডে ক্রিকেটেও অনেক সময় টি-২০তে রুপ নিতো। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৩৭ বলে সেঞ্চুরির রেকর্ডটি তারই। এছাড়া তার লেগ স্পিনটাও অনন্য অসাধারণ। কিন্তু তারপরও নামের পাশে কোন বিশ্বকাপ লেখা নাই আফ্রিদির। ১৯৯৯ বিশ্বকাপ তার ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ। দল ফাইনালে উঠলেও হেরে যায় অস্ট্রেলিয়ার কাছে। এরপর ২০০৩, ২০০৭, ২০১১ আর ২০১৫ বিশ্বকাপ খেলেছেন। ২০১১ বিশ্বকাপে ছিলেন অধিনায়কই। পাকিস্তানকে তুলেছিলেন সেমিফাইনালে। কিন্তু দল হেরে যায় মহেন্দ্র সিং ধোনির ভারতের কাছে।

তথ্যসূত্র: ক্রিকইনফো

শেয়ার করুণ

আপনার মন্তব্য দিন