কানাডায় গত বুধবার থেকে বৈধভাবে দোকানে গাঁজা বিক্রি শুরু হয়েছে। তবে গাঁজার এমনই চাহিদা যে প্রথম দিনেই জোগান ঘাটতি, মজুদ শেষ! ক্রেতারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও গাঁজা পাচ্ছেন না।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম বলছে, কানাডায় প্রতি আউন্স গাঁজা বিক্রি হচ্ছে ৮০৭ ডলারে। যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৫২ হাজার টাকা। এত উচ্চমূল্যের পরও দোকানগুলোতে উপচে পড়া ভিড়। দোকান খোলার আগে থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন ক্রেতারা। ক্রেতাদের অব্যাহত চাপে গাঁজার স্টক প্রথমদিনেই ফুরিয়ে যায়। গতকাল বৃহস্পতিবারও সংকট অব্যাহত ছিল।
কানাডার মন্ট্রিলের ৩০ বছর বয়সী গ্রাহক আলেক্সজান্ডার বলেন, ‘টানা ৭ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে গাঁজার দেখা পেয়েছি। এত দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকা সত্যিই বিরক্তিকর। কিন্তু গাঁজা হাতে পাওয়ার পর কষ্টটা ভুলে গেছি। লাইনে দাঁড়িয়েও বেশ মজা করেছি।’ অনেকে আবার লাইনে দাঁড়িয়েও পাননি গাঁজা। এ নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
অনেকে আবার অনলাইনে অর্ডার দিয়েও সময়মতো গাঁজা পাননি। এদিকে বাজারে গাঁজার চাহিদার পরিমাণও লক্ষণীয়। কানাডার সবচেয়ে ছোট প্রদেশ নোভা স্কোশিয়াতেই একদিনে ৫ লাখ ছয় হাজার ডলার বা প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকার গাঁজা বিক্রি হয়েছে।
জনবহুল প্রদেশ অন্টারিওর চিত্র আরও ব্যাপক। প্রথমদিন শুধু অনলাইনেই ৩৮ হাজার গ্রাহক গাঁজার অর্ডার দেন। এর মূল্য প্রায় সাড়ে সাত লাখ ডলার। পাশের ক্যুইবেক প্রদেশেও গাঁজা কিনতে চান ৪২ হাজার গ্রাহক। পাশাপাশি নিউফাউন্ডল্যান্ড, সাস্কাচুয়ান প্রদেশ এবং নুনাভুত এলাকাতেও গাঁজার সংকট দেখা দেয়।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্র্যুডো ২০১৫ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় গাঁজা বৈধ করার প্রতিশ্রুতি দেন। তার প্রতিশ্রুতিতেই বর্তমানে কানাডায় গাঁজা বৈধতা পেয়েছে। ট্রুডোর দেশের আগে উরুগুয়েতে গাঁজা বিক্রি ও সেবন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে পৃথিবীর অনেক দেশেই গাঁজাকে মাদকদ্রক্য হিসেবে গণ্য করা হয়।