বোমা, গুলি আর স্বজন হারানোর আহাজারিতে দিন পার করে ফিলিস্তিনের মানুষেরা। আধুনিক বিশ্বের সুবিধা বঞ্চিত দেশটির একটি অঞ্চল গাজা উপত্যাকা। ২০০৬ সালে দখলদার ইসরায়েল গাজা অঞ্চলে অবরোধ আরোপ করে। এরপর থেকে সেখানকার জনগণ ক্ষুধা, দারিদ্র্যতার সঙ্গে লড়াই করছে। নানান চাপের মুখেও নিজেদের উন্নয়নে কিছু মুসলিম রাষ্ট্রের সহযোগিতায় আলোর মুখ দেখার চেষ্টা করছেন গাজাবাসী। এজন্য শিক্ষার জন্য স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য শিল্প প্রতিষ্ঠান তৈরি ও কৃষিতে মনযোগ দিয়েছে ওই অঞ্চলের মানুষ। এরই অংশ হিসেবে মরুভূমির মাটিতে জলপাই চাষ করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। ফিলিস্তিনের জলপাই এবং এর তেল বিশ্বব্যাপী এখন সমাদৃত।
বিশ্লেষকরা বলছেন, অবরুদ্ধ গাজার এই সফলতা ইসরায়েলের কপালে ভাঁজ ফেলেছে। দেশটি নানাভাবে ষড়যন্ত্র করে যখন পেরে না উঠে, তখন গাজাবাসীর ওপর সশস্ত্র হামলা চালায়। মাঝে মাঝে নির্যাতিত এই জনপাদের অন্যতম সম্বল জলপাই বাগান ধ্বংস করে দেয়। সম্প্রতি এমনি একটি ঘটনা ঘটিয়েছে ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী।
মিডল ইস্ট মনিটরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনের উত্তর-পশ্চিম বেথেলহামে ২০৮ একর জমিতে ৪৭০০ বাড়ি তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে ইসরায়েল। এটিকে কেন্দ্র করেই বেশ কয়েকমাস ধরে বিক্ষোভ করছেন নির্যাতিত ফিলিস্তিনরা। আর এই বিক্ষোভে ইসরায়েল বাহিনীর হামলায় গেলো সেপ্টেম্বরে ২৬ জন নিহত হন। এরমধ্যে প্রাণ হারান গাজারই ২৩ জন। এ সময় ইহুদিবাদীরা গাজার কয়েকশ একর জলপাই বন ধ্বংস করে।
গাজার কৃষক রাবেত আল জাবুর জানান, জলপাই যখন গাছ থেকে নামানোর সময় হয়, তখন রাতে আমাদের পাহারার ব্যবস্থা করতে হয়। এর কারণ হলো- ইসরায়েলি বাহিনী ও তাদের লেলিয়ে দেয়া চোর রাতের অন্ধকারে গাছ থেকে জলপাই চুরি করে নিয়ে যায়।
দ্য ইলেকট্রনিক ইন্তিফাদার এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, জলপাই চাষ ফিলিস্তিনের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখে। তাই বরাবরই ইসরায়েল জলপাই বনগুলোতে হয় আগুন ধরিয়ে দেয় নয়তো রাতের অন্ধকারে গাছ কেটে রেখে যায়। ইতিমধ্যেই উত্তর-পশ্চিম বেথেলহামে ২০৮ একর জমিতে জলপাই বন ধ্বংস করে বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে দেশটি।
২০১৪ সালে প্রকাশিত জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, ফিলিস্তিনের জিডিপির ২৫ শতাংশই অবরুদ্ধ গাজা ও পশ্চিম তীরের জলপাই তেল উৎপাদন শিল্প থেকে আসে। প্রতিবছর এখান থেকে আয় হয় সাড়ে তিন কোটি টাকা। জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, জলপাই শিল্প ফিলিস্তিনের প্রায় এক লাখ পরিবারের অন্যতম আয়ের উৎস। যেখানে ১৫ শতাংশ নারী কাজ করে।
জলপাই চুরি কেন্দ্র করে অস্থিরতা : ২০০৬ থেকে ২০১৪ সালের ফিলিস্তিনের জলপাই বনে হামলা হয়েছে প্রায় ২৩০০ বার। এ ঘটনায় জেরুজালেম, পশ্চিম তীর, গাজায় অসংখ মানুষ আহত ও নিহত হয়েছে। ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে ফিলিস্তিনদের ঘর-বাড়ি। শুধু ২০০৯ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে প্রায় অর্ধলক্ষাধিক জলপাই গাছ ধ্বংস করেছে ইসরায়েল। এই হামলাকে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের ষড়যন্ত্রমূলক হামলা বলে চিহ্নিত করেছে জাতিসংঘ।