প্রায় সাত দশক পর উত্তর কোরিয়ায় থাকা আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করলেন দক্ষিণ কোরিয়ার ৮৯ জন নাগরিক, যারা এখন সময়ের পরিক্রমায় বৃদ্ধ-জরাগ্রস্ত। কোরীয় যুদ্ধে দুই কোরিয়ার মতো তারাও নিজের নিকট স্বজনদের থেকে পৃথক হয়ে যাওয়ার পর সোমবার তাদের মধ্যে প্রথম সাক্ষাৎ হলো। খবর এএফপি।
তিন বছর পর দুই কোরিয়ার মধ্যে তিনদিনের পুনর্মিলনীর আয়োজন করা হয়েছে। দেশ দুটির মধ্যে কূটনৈতিক বৈরিতার বরফ গলেছে। এরই ধারাবাহিকতায় এ আয়োজন। সিউল সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়ায় মাউন্ট কুমগ্যাংয়ের একটি রিসোর্টে দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকরা তাদের স্বজনদের সঙ্গে দেখা করছেন।
১৯৫০-৫৩ সাল পর্যন্ত চলা তিন বছরের যুদ্ধের পর দুই কোরিয়া বিভক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লাখ লাখ মানুষ তাদের স্বজনদের থেকে আলাদা হয়ে যায়। ভাই থেকে ভাই-বোন, বাবা-মায়ের কাছ থেকে সন্তান এবং স্বামী থেকে স্ত্রীরাও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তির বদলে সাময়িক যুদ্ধবিরতি চলছে দেশ দুটির মধ্যে। ফলে কৌশলগতভাবে দুই কোরিয়ার মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। দুই পক্ষের নাগরিকদের মধ্যে সব ধরনের তথ্য আদান-প্রদান এমনকি পারিবারিক সংবাদ দেয়াও নিষিদ্ধ।
প্রায় ৭০ বছর পর নিকট স্বজনদের সঙ্গে দেখা করার সময়টিতে দক্ষিণ কোরিয়ার বয়োবৃদ্ধ এ নাগরিকরা নিজের সবচেয়ে সেরা পোশাকটিই পরে এসেছিলেন। দক্ষিণ কোরিয়ার বন্দর সকোচ থেকে ১৪টি কোচে করে তাদের উত্তর কোরিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় অনেককে খুব উত্তেজিত দেখা যায়। আবার অনেকের কাছে গোটা বিষয়টি অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছিল। এ দলে ৯২ বছর বয়সী লি কেওম সিয়েম তার ছেলের সঙ্গে দেখা করবেন। শিশুকন্যাকে নিয়ে ছেলে ও স্বামীর কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন তিনি। সে সময় ছেলের বয়স ছিল মাত্র চার, যিনি এখন ৭১ বছর বয়সী। নিজের অনুভূতি জানিয়ে বলেন, ‘এ দিনটি আসবে তা কখনো ভাবিনি। এমনকি আমি জানতামই না সে জীবিত না মৃত।’