টপ পোষ্ট

 ৩ লাখ ভিসা বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র

0

ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর যারা আইন অমান্য করছেন কিংবা দেশটির জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

অপরাধ, জালিয়াতি এবং অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের দায়ে পূর্ববর্তী যেকোনো সরকারের তুলনায় বর্তমান প্রশাসন অনেক বেশি দ্রুতগতিতে ভিসা বাতিলের পদক্ষেপ নিচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় রেকর্ডসংখ্যক তিন লাখের বেশি বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, দেশের সীমান্ত সুরক্ষা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দপ্তরের এক কর্মকর্তা স্পষ্ট বলেছেন, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করা, জালিয়াতি, ভুল তথ্য প্রদান এবং অভিবাসন বিধিমালা লঙ্ঘনের কারণে অধিকাংশ ভিসা বাতিল করা হয়েছে। এমনকি যারা ভিসার যোগ্যতা হারিয়েছেন, তাদেরও তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং এই অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে সন্তান জন্মদানের মাধ্যমে শিশুর স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব পাওয়ার সুবিধা নেওয়ার চেষ্টাকারী বিদেশি নাগরিকদের ওপর কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন এ ধরনের প্রবণতাকে ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা জন্ম পর্যটন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। এই প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত থাকা কিংবা এতে সহযোগিতা করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ইতিমধ্যে চার হাজারেরও বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছে।

পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য বলছে, বাতিল হওয়া মোট ভিসার ২৫ শতাংশের পেছনে রয়েছে শারীরিক হামলা বা সমজাতীয় সহিংস অপরাধের রেকর্ড। এ ছাড়া মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর অপরাধে ২২ শতাংশ, চুরির দায়ে ৭ শতাংশ এবং মাদক সংক্রান্ত অপরাধ বা তা বিস্তারের অভিযোগে আরও ৭ শতাংশ ভিসা বাতিল করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আইন ভঙ্গকারী বা হুমকি সৃষ্টিকারীদের কাউকেই কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

ভিসা বাতিলের এই প্রক্রিয়াটি হঠাৎ করেই ঘটেনি, বরং এটি প্রশাসনের একটি ধারাবাহিক কঠোর নীতির অংশ। চলতি বছরের শুরুতেই, অর্থাৎ জানুয়ারি মাসে এক লাখের বেশি ভিসা বাতিল করে প্রথম রেকর্ড তৈরি করা হয়। পরবর্তীতে আগস্ট মাসে সেই সংখ্যা এক লাখ ৭৫ হাজার ছাড়িয়ে যায়। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, বাতিল হওয়া ভিসার সংখ্যা তিন লাখের মাইলফলক স্পর্শ করেছে।

বর্তমানে শুধু ভিসা বাতিলই নয়, বরং নতুন করে ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়াটিও অনেক বেশি জটিল ও কঠোর করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এখন আবেদনকারীদের ব্যাকগ্রাউন্ড চেকের পাশাপাশি তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যকলাপও গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে প্রশাসনের এই কড়াকড়ির তীব্র সমালোচনা করেছেন মানবাধিকারকর্মী ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা। তাদের আশঙ্কা, সামাজিক মাধ্যমে অতিরিক্ত নজরদারির ফলে মানুষের স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকার খর্ব হতে পারে এবং সাধারণ অভিবাসীরা অযাচিত বৈষম্য ও হয়রানির শিকার হতে পারেন।

শেয়ার করুণ

Comments are closed.