
সড়ক পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকদের আরও সক্রিয় ভূমিকা চাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
সোমবার (৪ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনে অংশগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়ন অনেকাংশেই নির্ভর করে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) কার্যকর ভূমিকার ওপর।
মন্ত্রী বলেন, সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকরা সরাসরি মাঠ পর্যায়ে কাজ করেন। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় তারা নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন, যা সম্মেলনে তুলে ধরা হয়েছে। তাদের সমস্যা, প্রত্যাশা ও প্রস্তাবনা শুনে সমাধানের উপায় নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
আরও দেখুন
পডকাস্ট সিরিজ
স্বাস্থ্য পরামর্শ
রান্নার রেসিপি
মন্ত্রী জানান, ভূমি অধিগ্রহণ বড় একটি বাধা হিসেবে সামনে এসেছে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনে যেখানে মাত্র ২০ শতাংশ কাজ হয়েছিল, সেখানে সাম্প্রতিক সময়ে অগ্রগতি বেড়ে প্রায় ৪৬ শতাংশে পৌঁছেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সড়ক শৃঙ্খলা রক্ষায় বিভিন্ন অনিয়মের দিকেও নজর দেন তিনি। রাস্তার দুই পাশ দখল, সড়কের ওপর বাজার বা পশুর হাট বসানো, অতিরিক্ত পণ্যবাহী যান চলাচল, অবৈধ বিলবোর্ড স্থাপন এবং অনিয়ন্ত্রিত স্পিড ব্রেকার স্থাপন, এসব বিষয়ে ডিসিদের আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নদী ও সরকারি জমি দখলমুক্ত রাখতেও তৎপরতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
হাইওয়েতে অবাধে থ্রি-হুইলার চলাচল প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এটি নিয়ন্ত্রণে প্রচেষ্টা চলছে, তবে বাস্তবতার কারণে তা পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন। ধাপে ধাপে নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
রেলক্রসিং দুর্ঘটনা ও ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের মতো ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
আরও দেখুন
ফ্যাশন টিপস
ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম
সংবাদ পরিবেশন
ঈদকে সামনে রেখে সড়কে যানজট ও দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি জানান, জাতীয় মহাসড়কে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে তা আঞ্চলিক ও জেলা সড়কেও সম্প্রসারণ করা হবে।
চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এটি একটি অপরাধ এবং এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ বিষয়ে তৎপর রয়েছে।
সবশেষে তিনি বলেন, সরকারের পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়নের জন্য কেন্দ্র ও মাঠ প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়াতে হবে। ডিসিদের সক্রিয় সহযোগিতা ছাড়া সড়ক খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব নয়।
এমআর//