
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস দিচ্ছে একটি জনমত জরিপ। জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৩৪ শতাংশ ভোটার বিএনপিকে এবং ৩৩ শতাংশ ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দিতে আগ্রহী।
অন্যদিকে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে গড়ে ওঠা নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রতি আস্থা রেখেছেন ৭ দশমিক ১ শতাংশ ভোটার।
আরও দেখুন
Politics
সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ প্রাক-নির্বাচনী জনমত জরিপের ফল প্রকাশ করা হয়।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রজেকশন বিডি, ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড ডিপ্লোমেসি (আইআইএলডি), জাগরণ ফাউন্ডেশন এবং ন্যারাটিভ—এই চারটি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে জরিপটি পরিচালনা করে।
আরও দেখুন
Politics
‘প্রি-ইলেকশন পালস: ইন-ডেপথ অ্যানালাইসিস অব দ্য বাংলাদেশি ইলেকটোরেট’ শীর্ষক এই জরিপ ২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত হয়। এতে দেশের ৬৪টি জেলার ২৯৫টি সংসদীয় আসনের অন্তর্ভুক্ত মোট ২২ হাজার ১৭৪ জন নিবন্ধিত ভোটার অংশ নেন।
সংবাদ সম্মেলনে জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করেন আইআইএলডির কর্মকর্তা শফিউল আলম শাহীন। জরিপ অনুযায়ী, বর্তমান জনসমর্থনের ভিত্তিতে বিএনপির পক্ষে ৩৪ দশমিক ৭ শতাংশ, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে ৩৩ দশমিক ৬ শতাংশ, এনসিপির পক্ষে ৭ দশমিক ১ শতাংশ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষে ৩ দশমিক ১ শতাংশ এবং অন্যান্য দলের পক্ষে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ ভোটার সমর্থন রয়েছে।
আরও দেখুন
Politics
জরিপে বলা হয়, বিএনপির ৭২ দশমিক ১ শতাংশ সমর্থক দলটির অতীত অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক সক্ষমতাকে সমর্থনের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের মধ্যে ৪৪ দশমিক ৮ শতাংশ দলটিকে কম দুর্নীতিগ্রস্ত এবং ৪০ দশমিক ৭ শতাংশ সততার ভাবমূর্তির কারণে সমর্থন করছেন।
নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে এনসিপিকে সমর্থনের ক্ষেত্রে ৩৬ দশমিক ৭ শতাংশ ভোটার জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দলটির ভূমিকাকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
আরও দেখুন
Politics
জরিপে আরও দেখা গেছে, ১৭ শতাংশ ভোটার এখনও সিদ্ধান্তহীন। তাদের মধ্যে ৩০ দশমিক ১ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা কোনো রাজনৈতিক দলকে বিশ্বাস করতে পারছেন না এবং ৩৮ দশমিক ৬ শতাংশ কোনো মতামত দিতে চাননি। এই ভোটাররাই শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন বলে জরিপে উল্লেখ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের অধ্যাপক মুশতাক খান, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেসের ডিন একেএম ওয়ারেসুল করিম এবং বিডিজবসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিম মাশরুর।