ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত ঘোষণা করা হয়েছিল নবজাতক মেয়ে শিশুটিকে। অথচ সেই মেয়েটি এখন শিশু হাসপাতালে ভর্তি চিকিৎসার জন্য। ব্যাপারটা অবিশ্বাস্য মনে হলেও বাস্তব। বিস্ময়কর এই ঘটনাটি ঘটেছে আজ সোমবার।
আজিমপুর কবরস্থানের মোহরারকে নগদ ২৯০ টাকা পরিশোধ করে সেই মৃত নবজাতককে দাফন করতে অপেক্ষা করছিলেন ধামরাইয়ের বাসিন্দা পিতা মিনহাজ ও শিশুটির মামা শরিফুল ইসলাম। টাকা পরিশোধের পর মোহরারও রেজিস্ট্রার খাতায় নাম ঠিকানা লিখছিলেন।
দুপুর সাড়ে ১২টায় সরেজমিন আজিমপুর পুরাতন কবরস্থানে মোহরারের কার্য়ালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে পুলিশ এসেছে। পুলিশ কর্মকর্তা বার বার নবজাতকের পিতার মোবাইল নম্বর আছে কিনা জানতে চাইছেন। জবাবে মোহরার বলছিলেন, মোবাইল নম্বর নেয়ার সময়টুকুও পাইনি। রেজিস্ট্রারে নাম-ঠিকানা লেখা শেষ হওয়ার আগেই মৃত নবজাতক নড়েচড়ে উঠে সবাই দৌড়ে চলে যায়।
আজিমপুর কবরস্থানের নারী ড্রেসার জেসমিন আক্তার ঝর্ণা জানান, মোহরারের মাধ্যমে একটি বক্সে করে নবজাতকের লাশটি কবরস্থানের ভেতরে গোসলখানায় পাঠানো হয়। তিনি নবজাতক শিশুটির গায়ে এক মগ পানি ঢেলে শরীরে সাবান লাগাতে না লাগাতেই দেখেন শিশুটি নড়াচড়া করছে। প্রথমে চোখের ভুল ভেবে আবার সাবান ঘষতেই নবজাতকটি হাত-পা নাড়ায়। এসময় তিনি সহকর্মীদের ডেকে বিষয়টি জানান।
পানি ঢালার কারণে শিশুটির ঠান্ডা লেগে শরীর আরও খারাপ হতে পারে এই ভেবে তোয়ালায় পেঁচিয়ে দ্রুত কবরস্থানের দক্ষিণ গেটে নিয়ে আসেন বলে জানান তিনি।
এদিকে, শিশু হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুটির খুব বেশি সমস্যা নেই। তাকে বাঁচিয়ে রাখার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী তারা।
শরিফুল নামে শিশুটির মামা জানান, তার বোন শারমীন আক্তারকে রোববার রাতে ধামরাই থেকে ঢাকা মেডিকেলে আনা হয় সন্তান প্রসবের জন্য। তাকে হাসপাতালের ১০৫ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।
আজ সকাল আটটায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার বোনের বাচ্চা প্রসব হয়। আর জন্মের পর পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।
শরিফুল কনস্টেবল হিসেবে কাজ করেন পুলিশে। তিনি জানান, শোক কাটিয়ে শিশুটিকে সমাহিত করতে আজিমপুর কবর স্থানে নিয়ে যান তারা। তার নাম রাখা হয় মীম। সেখানে গোসল করানোর সময় শিশুটি নড়ে উঠে। তখন বুঝতে পারেন শিশুটির হার্ট সচল আছে। মুহূর্তেই তার মধ্যে জাগে আশার আলো।
কবরস্থান থেকে শিশুটিকে নেয়া হয় আজিমপুরের একটি হাসপাতালে। সেখানে গিয়েই ডাক্তারদের কথায় আশা আরও বাড়ে শরিফুলের। পরে সেখানকার চিকিৎসকদের পরামর্শে শিশুটিকে শ্যামলী শিশু হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে সেখানকার ডাক্তাররা জানান, শিশুটি জীবিত।
শরিফুল জানান, শিশুটির মা এখনও ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি। তার স্বজনরাও আছেন সেখানে। ফোনে এই তথ্যটি জানিয়ে দেয়া হয়েছে তাদের। আর সেখানে সবার মনে এখন খুশির হাওয়া।