ক্যারিবিয়ান সাগর অঞ্চলের দ্বীপ দেশ হাইতির পশ্চিমাঞ্চলে বড় একটি ভূমিকম্প হয়েছে যা পুরো ক্যারিবিয়ান অঞ্চলজুড়ে অনুভূত হয়েছে।
শনিবার স্থানীয় সময় সকাল প্রায় সাড়ে ৮টার দিকের ভয়াবহ এ ভূমিকম্পে হাইতির দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলে বহু ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে এবং বেশ কিছু লোক নিহত হয়েছেন বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে।
ভবনগুলো ধসে পড়তে পারে এমন আশঙ্কায় ওই অঞ্চলের লোকজন বাড়ি ছেড়ে রাস্তায় বের হয়ে আসেন, ভূমিকম্পের পর সুনামি সতর্কতাও জারি করা হলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই তা তুলে নেওয়া হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, হাইতির পাটি ট্রু দ্য নেভাস শহর থেকে আট কিলোমিটার দূরে ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে ৭ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়, স্থানটি রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্স থেকে প্রায় দেড়শ কিলোমিটার পশ্চিমে।
ভূমিকম্পের পর থেকে এ পর্যন্ত বেশ কয়েকটি পরাঘাত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউএসজিএস।
১১ বছর আগে হাইতিতে ৭ মাত্রার যে ভূমিকম্প হয়েছিল এবারেরটি তারচেয়ে বড় ও ভূপৃষ্ঠের কম গভীরতায় উৎপত্তি হয়েছে। আগের ভূমকম্পটিতে দেশটিতে হাজার হাজার লোকের মৃত্যু হয়েছিল, বহু ভবন ধসে পড়ে দুই আমেরিকা মহাদেশের সবচেয়ে দরিদ্র দেশটির অনেক লোক গৃহহীন হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের সুনামি সতর্কীকরণ সিস্টেম ভূমিকম্পের পর সুনামি সতর্কতা জারি করেছিল, কিন্তু কিছুক্ষণ পরই তা তুলে নেয়।
হাইতির সিভিল প্রটেকশন সার্ভিস টুইটারে জানিয়েছে, তাদের টিমগুলোর কাছ থেকে সম্ভাব্য হতাহতের ঘটনার প্রাথমিক খবর পাওয়া গেছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসা ছবিতে দেখা গেছে, জেরেমি শহরের নিকটবর্তী কয়েকটি বাড়ি ও একটি গির্জা আংশিক ধসে পড়েছে।
রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সে ভূমিকম্পটি প্রবলভাবে অনুভূত হলেও সেখানে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে মনে হয়েছে, জানিয়েছেন রয়টার্সের প্রত্যক্ষদর্শী একজন সাংবাদিক। এ ভূমিকম্পটি ২০১০ এরটির চেয়ে আরও শক্তিশালী হলেও এবার তুলনামূলকভাবে হতাহত কম হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভূমিকম্প উপকেন্দ্রের নিকটবর্তী সবচেয়ে বড় শহর লি কাইয়ের দুই বাসিন্দা রয়টার্সকে জানিয়েছেন সেখানে একটি বড় হোটেল ও অন্যান্য ভবন ধসে পড়েছে।
হাইতির প্রধানমন্ত্রী এরিয়েল হেনরি বলেছেন, “ভয়াবহ এ ভূমিকম্পে বিভিন্ন প্রদেশে বেশ কয়েকজনের প্রাণ গিয়েছে ও বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নিহতদের পিতামাতার প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি আমি।”
তার এ বক্তব্যেই হতাহতের কথা প্রথমবারের মতো সরকারিভাবে নিশ্চিত করা হয় বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
এই ভূমিকম্পে বহু হতাহত ও ব্যাপক বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ইউএসজিএস।
সাগর তীরবর্তী লি কাইয়ের স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শহরটি কিছুক্ষণের জন্য পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল, তখন সুনামির আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল, কিন্তু তারপরই পানি নেমে যায়। তবে সুনামির আশঙ্কায় উপকূলীয় অঞ্চলের কিছু লোক ইতোমধ্যেই পাহাড়ের দিকে পালিয়ে যায় বলে হাইতির গণমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে।