টপ পোষ্ট

হাইকোর্টে আপিলের রায়- ফাঁসির দণ্ড থেকে ছাত্রলীগের ৬ জনের রেহাই

0

বিএনপি জোটের ডাকা অবরোধের মধ্যে পুরান ঢাকায় দিনদুপুরে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে নিরীহ দর্জি দোকানি বিশ্বজিৎ দাসকে হত্যা করেছিল ছাত্রলীগ ক্যাডাররা। সেই খুনের মামলায় আটজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন নিম্ন আদালত। দণ্ডিতদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি শেষে গতকাল রবিবার হাইকোর্ট রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে দুজনের ফাঁসি বহাল রেখেছেন; ফাঁসির দণ্ড পাওয়া অন্য চারজনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। বাকি দুজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। অন্য আসামিদের মধ্যে নিম্ন আদালতের রায়ে যাবজ্জীবন পাওয়া দুজনকেও খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এ মামলার ২১ আসামির মধ্যে পলাতক রয়েছে ১৩ জন। তাদের মধ্যে নিম্ন আদালতের রায়ে যাবজ্জীবন দণ্ড পেয়েছে ১১ জন। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল না করায় তাদের বিষয়ে হাইকোর্ট রায়ে কোনো মন্তব্য করেননি। এ অবস্থায় আইনজীবীরা বলেছেন, পলাতক ১১ জনের ক্ষেত্রে আগের যাবজ্জীবনের সাজা এখনো বহাল থাকবে। আসামিদের সবাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকর্মী।
বিশ্বজিতের লাশের সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনকে ত্রুটিপূর্ণ উল্লেখ করে হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা ও চিকিৎসকের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। আদালত বলেছেন, সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে—বিশ্বজিতের হাতে একটি কোপের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্বজিতের শরীরে একটি কোপ রয়েছে। অথচ গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদচিত্র ও ভিডিও চিত্র এবং সাক্ষীদের জবানবন্দিতেও এটা স্পষ্ট যে বিশ্বজিৎকে উপর্যুপরি আঘাতে হত্যা করা হয়েছে। রায়ে বলা হয়েছে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও চিত্র ও স্থিরচিত্র আমলে নিয়েই বিচারকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের এসব চিত্র অবশ্যই বিচারার্থে গ্রহণ করা প্রয়োজন বলেও মনে করেন হাইকোর্ট। ২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক এ বি এম নিজামুল হক বিশ্বজিৎ হত্যা মামলার রায় দেন। ওই রায়ে আটজনের মৃত্যুদণ্ড এবং ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। নিম্ন আদালতের রায়ের পর দণ্ডিতদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি হয় হাইকোর্টে। শুনানি শেষে গতকাল রায়ের জন্য দিন নির্ধারিত ছিল। হাইকোর্টের রায়ে ছাত্রলীগ ক্যাডার রফিকুল ইসলাম ওরফে শাকিল (চাপাতি শাকিল) ও রাজন তালুকদারের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। মাহফুজুর রহমান নাহিদ, ইমদাদুল হক এমদাদ, জি এম রাশেদুজ্জামান শাওন ও মীর মো. নূরে আলম লিমনের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া দুই ছাত্রলীগ ক্যাডার কাইউম মিয়া টিপু ও সাইফুল ইসলামকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট।

নিম্ন আদালতের রায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পেয়েছিল গোলাম মোস্তফা ও এইচ এম কিবরিয়া। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছিল তারা। হাইকোর্টের রায়ে ….kalerkhanto.

শেয়ার করুণ

আপনার মন্তব্য দিন