সাম্প্রতিককালে হিরো আলমকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা, সমালোচনা চলছে। বগুড়ায় ডিস ব্যবসা থেকে যাত্রা শুরু হলেও তিনি এখন জাতীয় সংসদে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করতে চান। এ জন্য বিভিন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। যদিও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তিনি নির্বাচিত হতে চান নাকি নির্বাচনকে ব্যবহার করে জনপ্রিয় হতে চান। একই সঙ্গে নির্বাচনকে হাসি-তামাশায় পরিণত করতে চান।
হিরো আলমের পুরো নাম আশরাফুল হোসেন আলম ওরফে হিরো আলম। নিজেই তিনি নিজের নাম দিয়েছেন ‘হিরো’। ইদানিং তিনি সবকিছুকে সিনেমাটিক গল্প মনে করেন। সিনেমায় যেমন তিনি নাচেন, গান, এবং অভিনয় করেন। ঠিক তেমনি সবকিছুতে নাটকীয়তা অনুভব করছেন।
কে এই হিরো আলম?
বগুড়ার এক দরিদ্র পরিবারের সন্তান তিনি। সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। সিডি ব্যবসা, ডিশ ব্যবসার এক পর্যায়ে মিউজিক ভিডিও বানিয়ে হয়ে উঠেছেন ‘হিরো আলম’। নিজের বানানো মিউজিক ভিডিওতে নিজেই হিরো। পেটের টানে প্রথমে সিডি বিক্রি করতেন। তারপর ডিশ ব্যবসায় নেমে ‘ডিশ আলম’নামে পরিচিতি পান।KSRM
২০১৬ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই হিরো আলম নানাভাবে আলোচনার কেন্দ্রে থাকছেন। শুধু বাংলাদেশ নয়, ভারতেও তার ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছিল, একটা সময় গুগল সার্চে সালমান খানের পরই সবচেয়ে বেশিবার খোঁজা হয়েছে হিরো আলমকে। তারপর থেকে হিরো আলম সবসময় কমবেশি আলোচনায় ছিলেন। এবার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন সংসদ নির্বাচনে। বগুড়ায় গত ১ ফেব্রুয়ারি উপ-নির্বাচনে হেরে গিয়ে আবার আলোচনার তুঙ্গে উঠেছেন।
হিরো আলমকে নিয়ে সবাই হাসি-তামাশা করে, মজা করে, ট্রল করে। অনেকে বলেন, হিরো আলম এত ট্রল সহ্য করেন কীভাবে। আসলে হিরো আলম চান সবাই তাকে নিয়ে আলোচনা করুক, ট্রল করুক। তাকে নিয়ে যত ট্রল, তত টাকা। এই বিষয়টি তিনি বুঝে গেছেন। শুধু তাই নয়, তার সঙ্গে থাকা অর্ধ শত ইউটিউবারের জমজমাট ব্যবসার মাধ্যম এখন হিরো আলম।
তবে তার ইচ্ছা ছিল হিরো হওয়ার। আমরা সিনেমাতে যেমন দেখছি হিরোর কারিশমাটিক পাওয়ারে সব এক নিমেষে দখলে আনা যায়। ঠিক তেমনি তথাকথিত হিরো আলম সবকিছুতে হিরোইজম খুঁজেন। এবার অভিনয়, কৌতুকের মত রাজনীতি নিয়ে শুরু করেছেন নতুন খেলা। তার এই খেলায় কৌশলে কলকাঠি নাড়ছেন ষড়যন্ত্রকারীরা। দেশের রাজনীতির সংকটকে কাজে লাগিয়ে তিনি হতে চান সংসদ সদস্য। ফায়দা নিতে চান এই সংকট কাজে লাগিয়ে।
তার সঙ্গে অর্ধশত ইউটিউবার, টিকটক ঘুরতে থাকেন। তিনি পর্দার অভিনয়কে বাস্তব জীবনে এক করে ফেলতে চান এবার তিনি এসেছেন রাজনীতির মাঠে। রাজনীতির পাঠ নেননি হিরো আলম অথচ তিনি দিনে দিনে হতে চান দেশের আইন প্রণেতাদের একজন।
এখন কথায় আসা যাক আজকে ঢাকা ১৭ আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজকের দিনেও তিনি নাটকীয়তা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেননি। অর্থাৎ রাজনীতিকেও তিনি অভিনয়ের সঙ্গে মিলিয়ে ফেলছেন, গুলিয়ে ফেলছেন। তার সঙ্গে থাকা অর্ধশত ইউটিউবার, টিকটকার নিয়ে তিনি ভোট কেন্দ্রে ঢুকতে চেয়েছিলেন। যা নির্বাচনী আচরণবিধির পরিপন্থী।
আজকের তার উপরে যে হামলার ঘটনা ঘটেছে সেখানেও এক ধরনের নাটকীয়তা হিসেবে দেখছেন নেটিজেনরা। নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এবং সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে তিনি এমন কাণ্ড ঘটিয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। যদিও তার উপরে হামলার ঘটনা অবশ্যই নিন্দনীয় এই ব্যাপারে নৌকার প্রার্থী আরাফাত নিন্দা জানিয়েছেন। অর্থাৎ নির্বাচন অত্যন্ত সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য হওয়ার শেষ মুহূর্তে শেষ বেলায় তীরে এসে তরী ডুবাতে তিনি উদ্যত হলেন। গল্পের প্রয়োজনে এরকম একটি হামলার দরকার ছিল যেমনটি হয়ে থাকে সিনেমায়। ঠিক তাই ঘটলো যেমনটি হিরো আলমের পাল্লা ভারি করতে প্রয়োজন ছিল। সিনেমাটিক কায়দায় তার ওপরে হামলা হলো এরপর তিনি হাসপাতালে গেলেন হাসপাতাল থেকে বাসায় বিরতির নির্বাচন বয়কট করলেন। গল্পের বিষয়গুলো সিনেমাটিক।
দেশে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সরকারের যেখানে আন্তরিকতা রয়েছে, ঠিক সেই সময় নির্বাচনকে ভণ্ডুল করার জন্য একটি চক্র অপপ্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। আজকের হামলা সেই ষড়যন্ত্রের অংশবিশেষ কিনা কিংবা ষড়যন্ত্রকারীরা হিরো আলমের ওপরে হামলার মাধ্যমে বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে কিনা সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। হিরো আলম অভিনীত এ সিনেমার চলচিত্রকার কে? হিরো আলম কি গল্পের প্রয়োজনে নায়ক নাকি নায়কের তকমায় থেকে তিনি ভিলেনের ভূমিকায় অভিনয় করছেন এ বিষয়টি খুঁজে বের করা সময়ের দাবি।