টপ পোষ্ট

১০০ কোটি টাকার আম রফতানি কবে সরকার

0

শের সুস্বাদু আমের বিদেশে চাহিদা থাকার পরেও রফতানিযোগ্য আমের উৎপাদন কম হওয়ায় রফতানি করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে ১৫টি জেলার ৪৬টি উপজেলায় ‘রফতানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্প ‘ বাস্তবায়ন করছে কৃষি মন্ত্রণালয়। গত এক বছরে দেশের ৯৯০ টি আম বাগান নিয়ে কাজ করছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের (ডিএই) এর এ প্রকল্প।

বাগানীদের নানা রকমের পরামর্শ ও সহযোগিতার মাধ্যমে ৯৯০ টি বাগানে এবছর ৮ লাখ ২৩ হাজার টন আম উৎপাদন হবে। শুধুমাত্র প্রকল্পভুক্ত এলাকাতে রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন হবে প্রায় ২ হাজার ১ শ মেট্রিক টন আম। এমনটাই জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ আরিফুর রহমান।

ডিএই বলছে, চাহিদার বিপরীতে চলতি বছর ৪ হাজার মেট্রিক টন বা গত বছরের দ্বিগুন আম রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যার বাণিজ্যক মূল্য প্রায় ১০০ কোটি টাকা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের (ডিএই)এর তথ্যানুযায়ী সর্বশেষ দেশে প্রতি বছর প্রায় ২৪ লাখ টন আম উৎপাদিত হয়। গত বছর (২০২১-২২ অর্থবছর) আম রফতানি হয়েছে ১৮২০ টন। তার আগের বছর রফতানি হয়েছে ১৭৫৭ টন। এর আগে আম রফতানির হার খুবই কম ছিল। ২০২০-২১ অর্থবছরে ৭৯১ টন, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ২৭৯ টন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৩০৮ টন, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২৩১ টন এবং ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৩০৯ টন আম রফতানি হয়েছে বলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশ আম উৎপাদনে বিশ্বে সপ্তম হলেও আম রফতানি শীর্ষ দশে নেই বাংলাদেশের নাম। আমাদের আমের চাহিদা আছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। সরকারের নেওয়া এই প্রকল্পটি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে গ্রামীণ অর্থনীতি উন্নয়ন, আম ভিত্তিক রফতানিমূখী কৃষি শিল্পের বিকাশ ঘটবে এবং গ্রামীণ মানুষের নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

প্রকল্প পরিচালক জানান, দেশের সবগুলো জেলাতেই কম-বেশি আম উৎপাদন হয়। দেশে ৭২ প্রজাতির আম উৎপাদন হলেও সব গুলো আম রফতানি যোগ্য নয়। আর হাতে গোনা অল্প কিছু আম রয়েছে যা স্বাদে গুনে অনন্য হওয়ায় (খিরসাভোগ, গোপাল ভোগ, হাড়িভাঙ্গা, আম্রপলি এবং বারি-৪) বিদেশে চাহিদা রয়েছে। একারণে রফতানিযোগ্য আমের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য এই প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের কার্যক্রম প্রসঙ্গে মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, উত্তম কৃষি চর্চার মাধ্যমে আম উৎপাদন প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হবে ৪০০ বাগানে। প্রকল্পকালীন সময়ে প্রকল্প এলাকায় ২৩০০টি বাগান প্রদর্শনী প্লটে রুপান্তর করা হবে। রফতানিযোগ্য জাতের আম বাগান করা হয়েছে ৩০০ টি। প্রকল্প মেয়াদে করা হবে২৩০০ টি বাগান। বিদ্যমান আম বাগানে সার ও বালাই ব্যবস্থাপনা করা হয়েছে ১৫০ টিতে। প্রকল্পকালে ১৮৪০টি বাগানে করা হবে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার ( প্রুনিং, ব্যাগিং, ও বালাই ব্যবস্থাপনা) মানস্মত আম উৎপাদন করানহবে ১৪০ টি বাগানে। মেয়াদকালীন সময়ের মধ্যে ১৮৪০টি বাগান এর আওতায় আনা হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, সংশ্লিষ্ট দেশে বিপুল পরিমাণ আম উৎপাদন হলেও রফতানি উপযোগী আম খুবই কম চাষ হয়। যুক্তরাজ্য ও মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে এই মুহূর্তে প্রায় ৫ হাজার টন আম রফতানির চাহিদা রয়েছে ব্যবসায়ীদের কাছে। সূত্র জানায়, মূলত রফতানি উপযোগী না হওয়ায় বিভিন্ন দেশের ক্রেতারা এ ফল কিনতে আগ্রহ কম দেখায়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩০টি দেশে আম রফতানি হয়। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি হয় যুক্তরাজ্যে। ইউরোপভুক্ত দেশে আমসহ যেকোনো ফল ও সবজি রফতানি হয় রাজধানীর শ্যামপুরস্থ কেন্দ্রীয় প্যাকিং হাউজের মাধ্যমে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশে আম রফতানি শুরু হলেও আগামী ২৩ মে যুক্তরাজ্যে বড় পরিসরে আম রফতানির উদ্বোধনীর মাধ্যমে ইউরোপে রফতানি কার্যক্রম শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এ দিন আম রফতানি কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ওয়াহিদা আক্তার।

সিআইপিকৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর বলছে, ফল ও সবজি এবং এ সংক্রান্ত পণ্য রফতানিকারক সমিতির (বিএফভিএপিইএ) তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে প্রায় চার হাজার মেট্রিকটন আম রফতানির লক্ষ্যে তারা কাজ করছেন। যোগাযোগ করছেন বিভিন্ন দেশের ক্রেতাদের সঙ্গে। বিমান ভাড়া বাদে ১৫০-১৬০ টাকা কেজি দরে আম রফতানি হয়। এবার প্রায় ১০০ কোটি টাকার আম রফতানির আশা করা হচ্ছে।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য বলছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত ২৯ হাজার ৪২৯ ডলারের ফ্রেশ অ্যান্ড ড্রায়েড ম্যাংগো রফতানি হয়। ২০২১-২২ অর্থবছরে ২ লাখ ৩৬ হাজার ২৭ ডলার, ২০২০-২১ অর্থবছরে ৪০ হাজার ১৯ ডলার, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১ হাজার ১৯৬ ডলার এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৩ হাজার ৬৬৩ ডলারের আম রফতানি হয়।

শেয়ার করুণ

Comments are closed.