টপ পোষ্ট

১০৪তম বছরে পা রাখলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

0

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হাঁটি হাঁটি পা পা করে আজ ১ জুলাই ১০৩ বছর পূর্ণ করে ১০৪তম বছরে পা রেখেছে। নাথান কমিশনের সুপারিশ আলোকে ১৯২১ সালের ১ জুলাই কার্যক্রম শুরু হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের। পরবর্তীকাল থেকে পূর্ব বাংলার মানুষের জন্য উচ্চশিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

নানা ঘটনা ও ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পদার্পণ করছে ১০৪তম বছরে। জাতির ক্লান্তিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ই দেখিয়েছিল আলোর দিশা। বাংলা ভাষাকে নিজের মাতৃভাষা হিসেবে রূপ দিয়ে ঝরিয়েছে রক্ত। দেশকে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর হাত থেকে রক্ষা করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারো শিক্ষার্থী প্রাণ বিসর্জন দিয়েছিলেন। স্বাধীন পতাকা ও মানচিত্র এনে দেওয়া এবং স্বাধীন বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে অগ্রহণী ভূমিকা রেখেছিলেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাই।

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনসহ গুরুত্বপূর্ণ সকল আন্দোলনের সূতিকাগার ছিলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। অতীতে সোনালী ইতিহাসের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে সামনের দিনগুলোতে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন জাতি হিসেবে দেশকে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে নেতৃত্ব দিতে হবে এ প্রতিষ্ঠানকে।

বর্তমানে দেশের সর্ববৃহৎ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্বের বুকে দেশকে প্রতিনিধিত্বকারী বিশ্ববিদ্যালয়ও এটি। তবে ছাত্র-শিক্ষক রাজনীতি, তীব্র আবাসন সংকটসহ নানা সমস্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমে পিছিয়ে রয়েছে।

ওয়ার্ল্ড র‍্যাংকিংগুলোতে চোখ বুলালে দেখা যায়, কিউএস এশিয়া ইউনিভার্সিটি র‍্যাঙ্কিং ২০২৪-এর করা তালিকায় শীর্ষ ১০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় জায়গা পায়নি বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের। এই তালিকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ১৪০তম।

এর আগে যুক্তরাজ্যভিত্তিক শিক্ষা সাময়িকী ‘টাইমস হায়ার এডুকেশন’ বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের যে র‌্যাঙ্কিং করেছিল সেই তালিকায় শীর্ষ ৮০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ছিল না। এই ৮০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ভারতের ২৪টি ও পাকিস্তানের ৮টি বিশ্ববিদ্যালয় জায়গা করে নিয়েছিল।

৩০ এপ্রিল প্রকাশিত এশিয়ার ৭৩৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে করা যুক্তরাজ্যভিত্তিক শিক্ষা সাময়িকী ‘টাইমস হায়ার এডুকেশন’এর সেরা ৩০০ এর মধ্যেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়গা হয়নি। যেখানে সেরা ৩০০ তালিকায় ভারতের ৪০টি, পাকিস্তানের ১২টি, মালয়েশিয়ার ১১টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছিল।

এ ছাড়া গত সেপ্টেম্বরে স্পেনের মাদ্রিদভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ওয়েবমেট্রিকসের করা র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ এক হাজার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় ছিল না। ৩১ হাজার বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে করা এ র‌্যাঙ্কিংয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ছিল যৌথভাবে ১ হাজার ৫১তম।

তবে আন্তর্জাতিকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাংকিং পিছিয়ে থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে শিক্ষার্থী ও সারাদেশের মানুষের প্রবল আশা ও আকাঙ্ক্ষা রয়েছে৷ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভালো করুক এবং দেশ ও দেশের বাইরে সুনাম অর্জন করুক এই পত্যাশা রাখেন তারা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সারাদেশের মানুষের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। সীমিত সম্পদের মধ্যে মানসম্মত  উচ্চশিক্ষা প্রসারে সর্বোচ্চ সেবা দিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শতকে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি গবেষণা প্রধান বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রূপান্তরের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে৷

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি তাদের বাজারমুখী দক্ষতা যেনো বাড়াতে পারি সেজন্য অনুষদ ভিত্তিক দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা আমরা ভবিষ্যতে করব। যেনো শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষে চাকরির বাজারে বাড়তি সুবিধা পায়। এটিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মূল উপজীব্য।

প্রতিবারের মতো এবারও বর্ণাঢ্য কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি উদযাপন করা হবে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘তরুণ প্রজন্মের দক্ষতা উন্নয়নে উচ্চশিক্ষা’। উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল সকাল ১০টায় ছাত্র-শিক্ষককেন্দ্রের সামনে পায়রা চত্বরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের বিভিন্ন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।

কর্মসূচি অনুযায়ী এদিন সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব হল ও হোস্টেল থেকে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা শোভাযাত্রা নিয়ে  স্মৃতি চিরন্তন চত্বরে সমবেত হবেন। সেখান থেকে পৌনে ১০টায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামালের নেতৃত্বে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা সহকারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অ্যালামনাই, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের সামনে পায়রা চত্বরে আসবেন।

সকাল ১০টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন  পতাকা উত্তোলন, পায়রা, বেলুন ও ফেস্টুন উড়ানো, কেক কাটা এবং সংগীত বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিম সং ও উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশিত হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর সকাল সাড়ে ১০টায় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘তরুণ প্রজন্যের দক্ষতা উন্নয়নে উচ্চশিক্ষা’ নিয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, এমপি।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন গ্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. সীতেশ চন্দ্র বাছার এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ।

এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষ, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যানসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অ্যালামনাই ও কর্মকর্তা- কর্মচারীরআ আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করবেন।

আলোচনা সভার শুরুতে দিবসটি উপলক্ষ্যে প্রকাশিত ‘স্মরণিকা’ ও ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইতিহাস ও ঐতিহ্য’ শীর্ষক গ্রন্থের ২য় খণ্ডের মোড়ক উন্মোচন করবেন প্রধান অতিথিসহ অতিথিরা।

দিবসটি উদ্যাপন উপলক্ষ্যে উপাচার্য ভবন, কার্জন হল, কলা ভবন ও ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সড়কসমূহে আলোকসজ্জা করা হবে। এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রবেশপথে তোরণ নির্মাণ এবং রোড ডিভাইডার ও আইল্যান্ডসমূহে সাজ-সজ্জন করা হবে।

শেয়ার করুণ

Comments are closed.